প্রশাসনে ‘গুপ্ত’ চক্র সক্রিয়: দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
বর্তমান প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ‘গুপ্ত’ ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গত সরকারের সাজানো প্রশাসন বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।সম্প্রতি একটি টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।আনিস আলমগীর বলেন, প্রশাসনে এখনো এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা মূলত বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করতে চায়। তিনি বলেন, এখান থেকে চিহ্নিত করতে হবে খুব গুপ্ত রাজনীতি—গুপ্ত গুপ্ত যারা আছে তাদেরকে এখানে চিহ্নিত করে বের করতে হবে। তার মতে, এই গোষ্ঠীটি সুপরিকল্পিতভাবে এমন সব ঘটনা ঘটাচ্ছে যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার নিন্দিত হয়।প্রশাসনের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ইউনূস সাহেব এবং আসিফ নজরুল যে প্রশাসন সাজিয়ে গিয়েছিল, সেই প্রশাসন রয়ে গেছে। সেই প্রশাসনের কাছে কি সরকার জিম্মি হয়ে যাচ্ছে কি না? তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউনূসের রেখে যাওয়া প্রশাসন নিয়ে এই সরকার চলতে পারে না।বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জেলখানা এখন সংশোধনের বদলে প্রতিহিংসার জায়গায় পরিণত হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, জেল একটা আজব আজাব হয়ে আছে। জেল কিন্তু সংশোধনের জায়গা, আপনাকে এখানে সংশোধন দিচ্ছে না, এখানে প্রতিহিংসা দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে কোনো চার্জশিট ছাড়াই মাসের পর মাস মানুষকে আটকে রাখা হচ্ছে।আনিস আলমগীর দাবি করেন, ড. ইউনূস দেশের কল্যাণের চেয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে ঘায়েল করতেই বেশি সচেষ্ট ছিলেন। তিনি বলেন, ইউনূস দেশের জন্য কল্যাণ কিছু করতে আসে নাই, আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে এসেছিল। এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করার এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার পেছনেও তার ভূমিকা ছিল বলে তিনি মনে করেন।ড. ইউনূসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে আরও বলেন, “ইউনূস সেটাই করেছিল, সে তার প্রতিপক্ষ ভেবেছিল আওয়ামী লীগকে। সে দেশের জন্য কল্যাণ কিছু করতে আসে নাই, আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে এসেছিল। দেশ কি তার মাথাব্যথা ছিল? আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করার পরিকল্পনা থেকে সে যা যা করার করার করেছিল।তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী করার অভিযোগ তুলে এই সাংবাদিক বলেন, আমাদের ইয়াং জেনারেশনকে স্পয়েল করা, তাদেরকে চাঁদাবাজি শেখানো, শিক্ষা থেকে দূরে রাখা, তাদেরকে বেয়াদবি শেখানো, তাদেরকে শিক্ষকদের অপমান করা শেখানো—ইউনূস এই সভ্যতা আমাদের চালু করার জন্য এসেছিল।সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে আনিস আলমগীর বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দেশের নিজস্ব গতিতে না চলে ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছায় চলছে। বিশেষ করে ড. খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমেরিকার স্বার্থে ড. খলিলুর রহমান একটি ‘গোলামি চুক্তি’ করেছেন যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে।পরিশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকারকে নিজস্ব গতিতে চলতে হলে এবং সাফল্য পেতে হলে ড. ইউনূসের রেখে যাওয়া ‘আবর্জনা’ বা অযোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে।