ঢাকা    শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

জঙ্গল সলিমপুর: পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ‘অপরাধ সাম্রাজ্য’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর আতঙ্ক আর ভীতির এক জনপদ। এখানের প্রবেশপথে থাকে সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র পাহারা। পাহাড়ঘেরা এই এলাকায় ঢুকতে গেলে দেখাতে হয় ‘বিশেষ পরিচয়পত্র’। এমনকি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ভেতরে যেতে পারেন না। অভিযান চালাতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হয়ে ফিরে এসেছেন বারবার। সবশেষ আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ২৪ মে গভীর রাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয় অন্তত ৩০০ জনের সশস্ত্র বাহিনী। হামলায় সবচেয়ে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র একে-৪৭ ব্যবহার করেছে তারা। পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিন বাহিনী এ হামলা চালায়।হামলার সময় বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াত ঠেকাতে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়। তবে যৌথ কিংবা সাঁড়াশি অভিযান; কোনও অভিযানেই ধরা পড়েনি ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান কিংবা তার সহযোগীরা।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ওই এলাকায় অভিযানে যাওয়ার আগেই খবর পেয়ে নিরাপদে চলে যায় ইয়াসিন বাহিনী ও তার সহযোগীরা। পাশাপাশি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোও নিরাপদে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ফলে ক্যাম্পে হামলার ঘটনার পর থেকে অভিযান চালিয়েও তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।গত ১৯ জানুয়ারি সেখানে অভিযান গিয়ে র‌্যাবের কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব নিহত ও আরও তিন সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এর রেশ না কাটতেই ২৪ মে মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা এবং নির্মাণাধীন আরেকটি ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর আবার আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুর। এ অবস্থায় ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরিদর্শন শেষে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুর আর কোনও বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এলাকা বা অভয়ারণ্য হিসেবে থাকবে না। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানাচট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে এর অবস্থান নগরের কাছে। এলাকাটির পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা।দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনও পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটি সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী। জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর, মূলত দুটি অংশে বিভক্ত এলাকাটি। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখানে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। এর মধ্যে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ৩০০ জনের একটি বাহিনী গড়ে তুলেছে।দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানাপ্রথমবারের মতো গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এর আগে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি। উল্টো অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তখনও অভিযানের পর সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিয়েছিল। পরে জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে র‍্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক দুটি চৌকি বসানো হয়েছিল। সর্বশেষ হামলার সময় বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।৩০০ জনের বাহিনী কার, রাজনৈতিক পরিচয় কীপুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মো. ইয়াসিন ও অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিনের রয়েছে ৩০০ জনের একটি বাহিনী। রোকন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত) এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। তারও শতাধিক সদস্যের ‘রোকন বাহিনী’ আছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ইয়াসিন সীতাকুণ্ডের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আল মামুনের আশ্রয়ে ছিলেন। এখন তিনি নিজেকে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। রোকন উদ্দিনও আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে আমার কোনও অনুসারী নেই। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িতও নন।’ তবে বাস্তবে দুই বাহিনী আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেয়।নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মূল বিরোধ তাদেরপুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াসিনের বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে ইয়াসিনের লোকজন ওই এলাকায় বিএনপির একটি কার্যালয় উদ্বোধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেখানে ইয়াসিনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী আসতে পারে—এই তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাবের ৪০ জনের একটি দল জঙ্গল সলিমপুরে গেলে হামলার শিকার হন। এ সময় অন্য সদস্যরা সরে আসতে পারলেও র‍্যাবের চার সদস্য ও তাদের তথ্যদাতাকে (সোর্স) আটকে ফেলে ইয়াসিনের লোকজন। পরে তাদের অটোরিকশায় করে তিন কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাদের মারধর করা হয়। এতে র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। বাকিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াত ঠেকাতে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে ফেলা হয়এরপর ৯ মার্চের যৌথ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন; মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক, গোলাম গফুরসহ তাদের কোনও সহযোগীকে গ্রেফতার করা যায়নি। এলাকাবাসী জানান, জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকনের দখলে আর আলীনগর এলাকা ইয়াসিনের দখলে আছে। এখনও সেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে।যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলাসর্বশেষ ২৪ মে রাত ১টার দিকে সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয় অন্তত ৩০০ জনের সশস্ত্র বাহিনী। হামলায় সবচেয়ে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র একে-৪৭ ব্যবহার করেছে তারা। পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা এ হামলা চালায়। পাশের বাড়ির টিনের দেয়াল ও চালে ছোট ছোট ছিদ্র করে পরিকল্পিতভাবে ফায়ারিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আকস্মিক হামলার পর পাল্টা অবস্থান নেয় যৌথ বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনায় পুরো এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। গোলাগুলির মধ্যেই সন্ত্রাসীদের আরেকটি দল পাশের নির্মাণাধীন যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াত ঠেকাতে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে দেওয়া হয়।জানা গেছে, নির্মাণাধীন ওই ক্যাম্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। গত ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেটির উদ্বোধনের কথা ছিল। তার আগেই হামলার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কেন বারবার হামলাগত ২৪ মে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে জঙ্গল সলিমপুরে। গত ১৯ জানুয়ারি র‌্যাবের একটি টিম অভিযানে গেলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে র‌্যাব কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব নিহত হন। আহত হন আরও তিন সদস্য। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বড়ইতলা এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ওই ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ২০২২ সালেও র‌্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। মূলত আধিপত্য ও সাম্রাজ্য বিস্তারের জানান দিতে হামলার ঘটনা ঘটছে।বাহিনীগুলোর নিজস্ব আইনে চলছে জঙ্গল সলিমপুরস্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ধীরে ধীরে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠে অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্যের বিশাল নেটওয়ার্ক। জঙ্গল সলিমপুর স্থানীয়দের কাছে বহুদিন ধরেই পরিচিত ‘দেশের ভেতরে আরেক দেশ’ হিসেবে। অভিযোগ আছে, এখানে রাষ্ট্রের আইন-কানুনের চেয়েও বেশি কার্যকর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ২৪ মে গভীর রাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয় অন্তত ৩০০ জনের সশস্ত্র বাহিনী‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন ৩৪টি পাহাড় কেটে প্রায় ৫৮৬ একর সরকারি জমিতে প্রায় ১৪ হাজার প্লট তৈরি করেছে। অন্যদিকে ‘আলীনগর সমবায় সমিতি’ আরও তিনটি পাহাড় কেটে ২৩৬ একর জমিতে আড়াই হাজারের বেশি প্লট তৈরি করেছে। এসব প্লট ৫ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকায় পাহাড় কাটাকে কেন্দ্র করে চালু রয়েছে ‘টোকেন সিস্টেম’। প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে টোকেন কিনে পাহাড় কাটার অনুমতি নেওয়া হয়। পরে সেই জমি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওসব বাহিনী। ভূমি অফিসের জরিপে অন্তত ৩৭টি পাহাড় কাটার প্রমাণ মিলেছে।যেভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিলস্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে দুর্ধর্ষ ভূমিদস্যু আলী আক্কাস প্রথম এই এলাকায় আধিপত্য গড়ে তোলে। তার হাত ধরেই শুরু হয় পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখল। ২০১০ সালে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে আলী আক্কাস নিহত হওয়ার পর তার অনুসারীরা এলাকা নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে ইয়াসিন বাহিনী, রোকন বাহিনীর প্রভাব বেশি। পাশাপাশি মশিউর, ফারুক, গাজী সাদেক, গফুর মেম্বার, রিপন ও আল আমিন সাগরসহ একাধিক ছো ছোট সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ হয়।যা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীচট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে যেই সন্ত্রাসী গ্রুপ জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইয়াসিন ও রোকন বাহিনীসহ সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’হামলার পরদিন যৌথ বাহিনী এলাকাজুড়ে অভিযানে নামেআইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কেন বারবার হামলা চালানো হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এলাকাটিতে পাহাড় কেটে কোটি কোটি টাকার প্লট-বাণিজ্য জড়িত। সেই বাণিজ্য ও আধিপত্য ধরে রাখতেই সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে। দ্রুত সড়ক নির্মাণ ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আসবে। তখন হামলাকারীরা চাইলেও এমন দুঃসাহস দেখাতে পারবে না।’তবে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা ও একটি নির্মাণাধীন ক্যাম্প ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।’র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই দিন রাত ১টার দিকে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর ২৫০-৩০০ জন সশস্ত্র সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে এই হামলা চালায়। তাদের হাতে রামদা, দেশীয় অস্ত্র এবং একে-৪৭ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।’তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা বুলডোজার দিয়ে আলীনগর স্কুলে থাকা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পেছনের দেয়াল ভেঙে দেয়। ওই স্কুলের শেষ প্রান্তে যৌথ বাহিনীর নতুন একটি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছিল। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। বুলডোজার দিয়ে সেটির প্রায় পুরোটাই গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা। সন্ত্রাসীরা গুলি করে আমাদের লোকজনকে ব্যস্ত রাখে এবং সেই সুযোগে ভাঙচুর চালায়। পাহাড়ে থাকা নতুন কয়েকটি টিনের ঘরের ভেতর থেকে টিন ফুটো করে বন্দুকের নল বের করে গুলি ছুড়েছে তারা। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।’

জঙ্গল সলিমপুর: পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ‘অপরাধ সাম্রাজ্য’