প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
মোজাফফর গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নতুন নাম, খোঁজা হচ্ছে ‘ফারুক’কে
অনলাইন ডেস্ক ||
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়া পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (বরখাস্ত) মোজাফফরকে ঘিরে সামনে এসেছে নতুন এক চরিত্র। তদন্তে উঠে এসেছে ‘ফারুক’ নামে এক ব্যক্তির নাম, যিনি নিয়মিত মোজাফফরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তাকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন মোজাফফরকে যারা আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করেছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি ও গত দুই বছরের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনায় উঠে এসেছে ‘ফারুক’ নামে সেই ব্যক্তির নাম। বিভিন্ন নথি অনুযায়ী, তিনি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, মোজাফফরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এই ফারুকের। বর্তমানে তাকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।চ্যানেল 24-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারীকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে। এছাড়া আরও কয়েকজন অজ্ঞাত সহযোগীকেও শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের অনেকেই ছদ্মনামে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। কীভাবে তারা এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন এবং এসব পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করলেই তদন্তের পরিসমাপ্তি হবে না। দীর্ঘ সময় তাকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, হিন্দু-মুসলমান পরিচয় তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন কিংবা আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করেছেন, তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা সম্ভব হয়েছে কারণ কেউ না কেউ সেই পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। তাই যারা তাকে আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করেছেন, তাদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফরকে রোববার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে। মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত