প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
১ জুলাই থেকে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের দাম বাড়তে পারে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত
অনলাইন ডেস্ক ||
আগামী ১ জুলাই থেকে দেশে আমদানিকৃত অফিসিয়াল স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়তে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ওপর দেওয়া বিদ্যমান শুল্কছাড়ের মেয়াদ আর না বাড়ানোর ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বৈধ পথে আসা স্মার্টফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, অবৈধ বা 'গ্রে-মার্কেট' এর হ্যান্ডসেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বৈধ আমদানিকারকদের টিকিয়ে রাখতে গত জানুয়ারিতে সরকার আমদানিকৃত স্মার্টফোনের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছিল।আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই বিশেষ সুবিধার ফলে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের ওপর কার্যকর করের হার ৬৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৩.৪৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সুবিধার মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর করের হার পুনরায় ৬৪.২৫ শতাংশে ফিরে যাচ্ছে।মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)-এর সভাপতি জাকারিয়া শহিদ এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ, প্রসেসর, মাদারবোর্ড এবং ব্যাটারির দাম ক্রমাগত বাড়ায় আমাদের উৎপাদন খরচ ইতিমধ্যেই বাড়ছে। এর ওপর যদি আমদানি শুল্ক আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তবে স্মার্টফোনের দাম অনিবার্যভাবে আরও বাড়বে। এতে সাধারণ ক্রেতারা আবারও গ্রে-মার্কেটের দিকে ঝুঁকতে পারেন।'কেন এই শুল্কছাড় প্রত্যাহার করা হচ্ছে—জানতে চাইলে এনবিআরের একজন কাস্টমস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'মূলত বৈধ পথে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতেই এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকমাসে দেখা গেছে, আমদানির পরিমাণ বা স্থানীয় উৎপাদন—কোনোটিই প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। অর্থাৎ এই প্রণোদনা তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।'বর্তমানে বাংলাদেশে এন্ট্রি-লেভেল এবং মিড-রেঞ্জ ফোনের একটি শক্তিশালী সংযোজন শিল্প গড়ে উঠলেও অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং এবং শাওমির মতো ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম বা ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনগুলোর জন্য দেশ পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত করের বোঝা এসব ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাসরুর বলেন, 'স্মার্টফোন এখন আর কোনো বিলাসদ্রব্য নয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ই-কমার্সের জন্য এটি এখন অপরিহার্য ডিজিটাল অবকাঠামো। স্মার্টফোনের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা কমানো উচিত, কারণ এর দাম বাড়লে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত জানুয়ারিতে শুল্ক কমানোর আগেই বিশ্ববাজারে যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার অজুহাতে অনেক ব্র্যান্ড হ্যান্ডসেটের দাম ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। এখন করের হার পুনরায় ৬৪ শতাংশের ওপরে চলে গেলে বৈধ ও অবৈধ বাজারের হ্যান্ডসেটের দামের পার্থক্য আরও প্রকট হবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করলেও গ্রে-মার্কেটের ফোনের সহজলভ্যতা কমেনি।খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চ করের কারণে বৈধ পথে আমদানি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব হারাবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত