প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
ভূমিকম্প প্রস্তুতিতে ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক গঠনের উদ্যোগ
অনলাইন ডেস্ক ||
রাজধানীতে ভূমিকম্পসহ নগর দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে মোট ৪৪৫টি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যার টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে একথা জানান মন্ত্রী।তিনি আরও জানান, নগর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৫৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৮৯টিসহ মোট ৪৪৫টি ভূমিকম্পের নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব আশ্রয়স্থল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।এছাড়া ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদানের লক্ষ্যে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত স্বেচ্ছাসেবক ডাটাবেজ প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান দুর্যোগমন্ত্রী।আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্প ও সুনামির ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়ায় এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক ও ঝুঁকি হ্রাসমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও জরুরি সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২, দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি (এসওডি), ২০১৯, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং জাতীয় ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও মোকাবিলা পরিকল্পনার আলোকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।তিনি জানান, জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে নিয়মিত সভা, প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া পরিচালনার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ভূমিকম্প ও সুনামি সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচারের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি এবং সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক দলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে, যাতে দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।মন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার ভূমিকম্প ও সুনামিজনিত ঝুঁকি হ্রাস এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত