প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
কোরবানির গরু কাটতে বিমানেই ঢাকায় যাচ্ছে সৈয়দপুরের কসাই দল
অনলাইন ডেস্ক ||
৫৫ বছর বয়সী নাদিম কোরাইশি এলাকায় ‘ছোটু নাদিম’ নামেই পরিচিত। তিনি সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। কোরবানির ঈদের আগের দিন ১০ সদস্যের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় যাবেন তিনি। এরই মধ্যে টিকিট কাটা হয়েছে। ছোটু নাদিম বলেন, ‘আমাদের বাপ-দাদারাও কোরবানির ঈদে ঢাকায় কাজ করতে যেতেন। এখনো মানুষ আমাদের ডাকেন। চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে মাংস পিস করা, হাড় আলাদা করা—সব কাজেই দক্ষতা লাগে। ছোটবেলা থেকেই এসব কাজ শিখে বড় হয়েছি আমরা।’ঈদুল আজহা সামনে এলেই সৈয়দপুর শহরসহ বিভিন্ন এলাকার মাংসপট্টিতে বাড়ে ব্যস্ততা। পশুর হাটের পাশাপাশি শুরু হয় কসাইদের ঢাকামুখী প্রস্তুতি। প্রতিবছরের মতো এবারও সৈয়দপুর থেকে শতাধিক কসাই রাজধানীতে যাবেন কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, আবার অনেকে বিমানে যাবেন। ঈদের কয়েক দিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু জবাই ও মাংস কাটার কাজ শেষে তাঁরা সৈয়দপুরে ফিরে আসবেন।ছোটু নাদিমসহ এসব কসাইয়ের বড় একটি অংশ বিহারি। বংশপরম্পরায় তাঁরা মাংস ব্যবসা ও কসাইয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত। পশু জবাই ও মাংস কাটায় তাঁদের বিশেষ দক্ষতা থাকায় ঢাকায় তাঁদের আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে। ছোটু নাদিমের মতে, কসাইয়ের কাজও এক ধরনের শিল্প। নিখুঁতভাবে পশু জবাই, চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো এবং সুন্দরভাবে মাংস ভাগ করার জন্য দক্ষতা প্রয়োজন।বাবার হাত ধরে প্রায় ২০ বছর আগে কসাইয়ের কাজ শুরু করেন ছোটু। এরপর থেকে প্রতি ঈদেই তিনি ঢাকায় আসছেন। রাজধানীর অনেক অভিজাত পরিবারের বাড়িতে কাজ করেছেন তিনি। একসময় ঢাকার সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার বাসাতেও কোরবানির গরু জবাই করেছেন। ছোটু জানান, তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও করে দিতেন খোকা।গত বছর চার সহযোগী নিয়ে ঢাকায় ১২টি গরু জবাই করেছিলেন ছোটু। এতে মোট আয় হয়েছিল প্রায় ২ লাখ টাকা। সহযোগীদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে দেন তিনি। যাতায়াত খরচও বহন করেন নিজেই। এবার তাঁর দলে সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ জন। দলটিকে তিন ভাগে ভাগ করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার তাঁদের বুকিং দিয়েছে।ছোটু নাদিমের মতো সৈয়দপুর পৌর মাংসহাটির কসাই ফজলে রাব্বি, নওশাদ আলী ও খয়রাত হোসেনও পৃথক দল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সি থেকে তাঁরা বিমান টিকিট কিনেছেন। ফজলে রাব্বি বলেন, ‘ঈদের আগে ঢাকাগামী বিমানে যাত্রী কম থাকে। কারণ, তখন সবাই ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে আসেন। তাই বিমান কোম্পানিগুলো ভাড়া কমিয়ে দেয়। আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাই।’মো. মিন্টু কসাই বলেন, ‘সবাই পরিবার নিয়ে ঈদ করতে চায়। কিন্তু আমরা বাড়তি টাকার আশায় ঢাকায় যাই। ঢাকায় মাংস কাটার রেট অনেক বেশি।’ তিনি জানান, সৈয়দপুরে ১ লাখ টাকা দামের একটি গরু জবাই করে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়। অথচ ঢাকায় একই কাজের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। একজন অভিজ্ঞ কসাই ঈদের তিন দিনে অন্তত ১০টি গরুর মাংস কাটতে পারেন। ফলে তিন দিনের কাজ শেষে অনেকে ভালো আয় করে বাড়ি ফেরেন।ঢাকার অনেক পরিবার এখন সৈয়দপুরের কসাইদের নাম ধরে চেনেন। অনেকের কাছে তাঁদের মোবাইল নম্বরও সংরক্ষিত আছে। সৈয়দপুর শহরের কারখানা গেট বাজারের কসাই মোস্তাকিম বলেন, ‘আগে আমার বাবা ঢাকায় যেতেন। মূলত গুলশান-বনানীর বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্টে কাজ করতেন। তিন বছর ধরে আমি বাবার দেওয়া ঠিকানায় যাচ্ছি। ওই অ্যাপার্টমেন্টের গ্যারেজেই আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়।’
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত