প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
হাইকোর্টে ‘গায়েব’ ১৬ কেজি সোনা
অনলাইন ডেস্ক ||
আদালতের নথিতে কলমের এক খোঁচায় গায়েব হয়ে গেল ১৬ কেজি সোনা! সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দ হওয়া সাড়ে ১৭ কেজি সোনা হাইকোর্টের নথিতে হয়ে গেল মাত্র দেড় কেজি। এই জালিয়াতির মাধ্যমে আসামিরা জামিন নিয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে গেলেও, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিচার বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শারজাহ থেকে আসা দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১২০টি সোনার বার ও ৪টি সোনার পেস্টের চাকা জব্দ করে এনএসআই ও শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। যার তৎকালীন বাজার মূল্য ছিল প্রায় ২১ কোটি টাকা। এই মামলার আসামিরা গত বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, জামিন শুনানির সময় নথিতে ১৭ কেজি ৫০০ গ্রাম সোনার পরিমাণ সুকৌশলে পরিবর্তন করে দেখানো হয় মাত্র ১ কেজি ৫০০ গ্রাম। অর্থাৎ মূল সংখ্যার ‘৭’ সরিয়ে দিয়ে বিশাল এই চোরাচালানকে ক্ষুদ্র একটি অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তথ্যের এই বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত হয়ে আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।জামিন হওয়ার পাঁচ দিন পর রাষ্ট্রপক্ষ নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি করলে এই ভয়াবহ জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। দেখা যায়, নথির পাতায় ১৭ কেজি থেকে ৭ সংখ্যাটি অত্যন্ত সুকৌশলে মুছে ফেলা হয়েছে। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জামিন স্থগিত করলেও ততক্ষণে আসামিরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান।এই জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনজীবী সাদিয়া ইয়াসমিন দায় অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, মামলা গ্রহণের সময় নথিতে সোনার পরিমাণ দেড় কেজিই উল্লেখ ছিল। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ একে পরিকল্পিত জালিয়াতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।উচ্চ আদালত এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তৎক্ষণাৎ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, আদালতের সুরক্ষিত নথিতে এমন পরিবর্তন কি সাধারণ কারো পক্ষে সম্ভব, নাকি এর পেছনে কোনো বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে?
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত