প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
জাতীয় জনজাতি জোটের আত্মপ্রকাশ
অনলাইন ডেস্ক ||
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থিত সংগঠন হিসেবে দলিত, হরিজন, তফসিলি ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ‘জাতীয় জনজাতি জোট’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে।। এসময় ডেভিড রাজুকে আহ্বায়ক ও কৈলাশচন্দ্র রবিদাসকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।শনিবার (২ মে) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্র্যাব মিলনায়তনে সংগঠনের উদ্বোধনী ও সমাবেশ হয়।এসময় অনুষ্ঠানে জাতীয় জনজাতি জোটের ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন ও পরিচিত করিয়ে দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। জানা যায়, কমিটিতে আরও রয়েছেন- সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাজেন্দ্র কুমার দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক বরাই, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব অরুণা রানী দাস, যুগ্ম সদস্যসচিব নিপু দাস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় দাস।দলিত-হরিজন-তফসিলির সম্প্রদায়ের নেতারা ১৪ দফা দাবির সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেন।দাবিগুলো হলো: দলিত, তফসিলি, হরিজন জনগোষ্ঠীকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। সংশোধনীসহ বৈষম্য বিলোপ আইন-২০২৩ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। দলিত, তফসিলি, হরিজন জনগোষ্ঠীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সব কাঠামোতে সংখ্যানুপাতিক হারে এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে এই জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। ভূমিহীন এই জনগোষ্ঠীকে মালিকানাসহ স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যমান জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০০১ এবং সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯ সংস্কার করে এই জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের সিলেবাসে দলিত জনগোষ্ঠী সম্পর্কে যথাযথ ধারণা প্রদান করতে হবে, যা বিদ্যমান সামাজিক ভেদাভেদ ও বৈষম্য নিরসনে ভূমিকা রাখবে।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম সদস্যসচিব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিষয়ক সেল সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এসহান শুভ্র, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম এবং কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে তফসিলি ও দলিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতার পর আমাদের অর্থনীতি বেড়েছে, কাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা অগ্রসর হয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচারের যে অঙ্গীকার ছিল, সেই জায়গায় সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে দলিত, হরিজন ও তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের জন্য আলাদা জনগণনা এবং সঠিক তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে এই জনগোষ্ঠীর মানুষ এখনো ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা পান না জানিয়ে রংপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, যারা পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন, তারা কাজ শেষে কোনো হোটেলে ঢুকে খেতে পারেন না; তাদের বাইরে বসে খেতে হয়। যদিও কিছু পরিবর্তন এসেছে, তবু এই বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি।এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, যেদিন দলিতরা অধিকার পাবে সেদিন এ দেশের আর কেউ অধিকারহীনতা থাকবে না।
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত