প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আড়ম্বর নয়, দায়িত্বের রাজনীতি: নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা?
রাহাত নোমানী, নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাষ্ট্র পরিচালনায় বাহাদুরি নয়, দায়িত্ববোধই নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় এমন এক বার্তা মিলল বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে। গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি যে ধরণের আচরণ ও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিন সরকারি পতাকাবাহী বিলাসবহুল গাড়ির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগত সাদা টয়োটা গাড়িতে যাত্রা করেন। ব্যবহৃত জ্বালানিও ছিল তাঁর ব্যক্তিগত অর্থে ক্রয় করা। গাড়ি চালান তাঁর নিজস্ব চালক।নিরাপত্তা বহরেও ছিল সংযম। প্রচলিত ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ির বিশাল কনভয়ের পরিবর্তে সঙ্গে ছিল মাত্র চারটি গাড়ি। তাঁর চলাচলের সময় নগরীতে ট্রাফিক বন্ধ করা হয়নি এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল। রাস্তার দুই পাশে অপ্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েনও দেখা যায়নি।রাষ্ট্রীয় আড়ম্বর কমানোর অংশ হিসেবে অপ্রয়োজনীয় পতাকা ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিদেশি অতিথি আগমনের ক্ষেত্রে প্রটোকল অনুযায়ী পতাকা ব্যবহার করা হবে।এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে ভিআইপি চলাচলজনিত কারণে রাজধানীতে সৃষ্ট অযথা যানজট হ্রাস পেতে পারে।প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ পুলিশ মোতায়েন রাখার পুরোনো প্রথাও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় আড়ম্বর নয়, বরং মানুষের স্বস্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এক স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের অন্যান্য স্তরের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারাও কি একই ধারা অনুসরণ করেন কিনা।অনেকে এটিকে সম্ভাব্য এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হিসেবেও দেখছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত