প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
শবেবরাত কি ভাগ্য নির্ধারণের রাত? ইসলামী ব্যাখ্যা দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
অনলাইন ডেস্ক ||
শবেবরাত ফারসি ভাষার শব্দ। ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। আরবি শব্দ ‘বারাআত’-এর অর্থও মুক্তি। সে অনুযায়ী শবেবরাতের অর্থ দাঁড়ায় ‘মুক্তির রাত’। প্রতি বছর হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতটি মুসলমানরা শবেবরাত হিসেবে পালন করে থাকেন।হাদিস শরিফে এই রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা ‘শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের গোনাহ থেকে মুক্ত করে ক্ষমা করে দেন। এই কারণেই ফারসি ভাষায় রাতটিকে ‘শবেবরাত’ বা মুক্তির রাত বলা হয়।তবে মহিমান্বিত এই রাতকে ঘিরে সমাজে নানা ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি হলো—শবেবরাতে মানুষের ভাগ্য বা তাকদির লেখা হয়। এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক আলোচনায় তিনি বলেন, “শবেবরাতে ভাগ্য লেখা হয়—এই ধারণা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।”শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শবেবরাতে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় না। মানুষের তাকদির লিপিবদ্ধ হয় শবেকদরে বা লাইলাতুল কদরে।তিনি জানান, পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় কোরআন নাজিলের রাতে। সুরা দুখানে ইরশাদ হয়েছে—“হা-মিম! সুস্পষ্ট কিতাবের কসম! নিশ্চয়ই আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে… সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয় আমার নির্দেশে।” (সুরা দুখান: ১–৫)এই আয়াতে যে ‘বরকতময় রাত’-এর কথা বলা হয়েছে, তা মূলত শবেকদরকেই নির্দেশ করে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। কারণ সুরা কদরে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোরআন নাজিল হয়েছে লাইলাতুল কদরে।সুরা কদরের প্রথম আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন—“নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে।” (সুরা কদর: ১)শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ের আলোকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, মানুষের তাকদির বা ভাগ্য লিপিবদ্ধ হয় কদরের রাতে, শবেবরাতে নয়। শবেবরাত হলো মূলত ক্ষমা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের রাত।
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত