প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
ভোট একটি আমানত, অবহেলা করলে জবাবদিহি করতে হবে—মুফতি রাহাত নোমানী
স্টাফ রিপোর্টার ||
ভোট শুধু একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত—এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলোচক মুফতি রাহাত নোমানী। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ভোট প্রদান ও নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যাখ্যা করেন।মুফতি রাহাত নোমানী বলেন, “ইসলামে আমানতের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ভোট এমন একটি আমানত, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠী ক্ষমতার অধিকারী হয়। সুতরাং অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত বা আল্লাহর বিধানের বিরোধী কাউকে ভোট দেওয়া আমানতের খিয়ানতের অন্তর্ভুক্ত।”তিনি আরও বলেন, “ভোট দেওয়া মানে শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একপ্রকার সাক্ষ্য। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করবেন—তুমি কাকে, কেন ক্ষমতার আসনে বসালে।”ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা উদাসীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন, ‘আমার একটি ভোটে কী আসে যায়।’ এই চিন্তাধারা ইসলামী আকিদার পরিপন্থী। ইসলামে প্রতিটি আমল ও সিদ্ধান্তের হিসাব রয়েছে।”নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাওয়া উচিত—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সততা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার ও দ্বীনি মূল্যবোধ—এই গুণগুলো যার মাঝে বিদ্যমান, তাকেই সমর্থন করা উচিত। ব্যক্তি বা দল নয়, আদর্শই হওয়া উচিত ভোটের মানদণ্ড।”শেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুফতি রাহাত নোমানী বলেন, “ভোট দেওয়ার সময় আবেগ, স্বার্থ কিংবা চাপ নয়—আল্লাহভীতিকে সামনে রাখুন। একটি ভুল ভোট একটি জাতির ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুফতি রাহাত নোমানীর এই বক্তব্য ভোটারদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত