প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: নিপা ভাইরাসের ছোঁয়ায় স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা
অনলাইন ডেস্ক ||
দোরগোড়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২৬ আসরের মূল আয়োজক ভারত, সহআয়োজক শ্রীলঙ্কা। তবে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে ভারতে আশঙ্কাজনক হারে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ভারতে আদৌ বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব হবে কি না—তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।ভারতে নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই এশিয়ার একাধিক দেশে ভারতফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে আবারও কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থার যুগ ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপ খেলতে আসা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দর্শক ও সাংবাদিকদের ভোগান্তিও বহুগুণে বাড়বে।ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতে ছড়িয়ে পড়া নিপা ভাইরাস নিয়ে হাই এলার্ট জারি করেছে। বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে খবর প্রকাশ করেছে জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার, খাইবার নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক ও মারাত্মক। কাঁচা খেজুরের রস পানসহ বিভিন্ন উপায়ে এ ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে এবং একবার সংক্রমিত হলে দ্রুত অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—নিপা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা প্রতিষেধক এখনো নেই। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও মহামারি ছড়াতে সক্ষম ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন জানিয়েছে, ভারতে ইতোমধ্যে চিকিৎসাকর্মীসহ অন্তত পাঁচজন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। জনবহুল দেশ হওয়ায় ভারতে সবার স্ক্রিনিং কার্যত অসম্ভব, যা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।এর আগে করোনাকালে ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছিল। অনেক এলাকায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত থেকে সরিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে আয়োজন করতে হয়েছিল।বর্তমানে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যেভাবে বাড়ছে, তাতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে আয়োজন করা আদৌ সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে।উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। যারা সুস্থ হন, তাদের মধ্যেও পরবর্তীতে স্নায়ুবিক জটিলতা দেখা দেওয়ার নজির রয়েছে। সমসাময়িক অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় নিপার ভয়াবহতা অনেক বেশি।এ অবস্থায় ভারতের স্বাস্থ্য ও মেডিকেল বিভাগ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা। কারণ হাতে যে সময় খুব বেশি নেই।
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত