প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল ইসলামী আন্দোলন: ২৬৮ আসনে একক প্রার্থী, আদর্শিক সংকটের অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক ||
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জানিয়েছে, তারা ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আদর্শিক প্রশ্ন, আসন বণ্টনে ইনসাফের অভাব এবং রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে অনাস্থার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি দলটির।
জামায়াতে ইসলামীসহ গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিল। এর মধ্যে আপিলে দুটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ২৬৮টি আসনে তাদের প্রার্থিতা বৈধ রয়েছে। এসব আসনেই দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে এবং কোনো প্রার্থীই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না—এমন কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জোট ছাড়ার ব্যাখ্যায় গাজী আতাউর রহমান বলেন, “আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠাকে ইবাদত মনে করে রাজনীতি করি। ক্ষমতার রাজনীতি আমাদের লক্ষ্য নয়; আমাদের রাজনীতি নীতি ও আদর্শভিত্তিক। ১১ দলের জোটে ইনসাফের প্রশ্নে আমরা বারবার বৈরিতার শিকার হয়েছি।”তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্তে কোনো হতাশা নেই, কারণ তাদের রাজনৈতিক পথচলা আদর্শনির্ভর এবং দীর্ঘমেয়াদি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে সমঝোতার কথা প্রকাশ করেছেন। এতে নির্বাচন ‘পাঁতানো’ হতে পারে—এমন শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, “আমরা এ দেশের ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে কোনোভাবেই প্রতারণা করতে পারি না। ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন কাজ করছি, শেষ পর্যায়ে এসে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”এই পরিস্থিতিতে ইসলামী আদর্শের পক্ষে থাকা ভোট ও শক্তিকে ‘একটি বাক্সে হেফাজত’ করতেই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটি একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে শক্তি-সামর্থ্যের বিচারে বড় হলেও আদর্শিক ও নৈতিক প্রশ্নে ইসলামী আন্দোলন কারও চেয়ে দুর্বল নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করে বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তারা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। এই অবস্থান জানার পর ইসলামী আন্দোলন নিশ্চিত হয়েছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য এই জোটে পূরণ হবে না।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে গাজী আতাউর রহমান বলেন, “আজ যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন প্রধান শক্তিগুলো যদি ইসলামী আইনের প্রশ্নে আপস করে, তাহলে সারা দেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করা কর্মী ও সমর্থকদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। তাই আমরা ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইসলামপন্থি শক্তির সব ভোট এক বাক্সে ফেলতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের এই সিদ্ধান্ত ইসলামপন্থি রাজনীতিতে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের হিসাব-নিকাশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত